হোম প্রবাসী খবর লেবাননে আন্দোলনে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে ‘না’

লেবাননে আন্দোলনে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে ‘না’

10
লেবাননে আন্দোলনে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে ‘না’

বিটিএন২৪ রিপোর্ট: লেবাননে জরুরি অর্থনৈতিক অবস্থা ঘোষণা, মার্কিন ডলারের সংকট, বাজেট অধিবেশনকে সামনে রেখে দ্রব্যপণ্যের উপর মূল্য সংযোজন কর বৃদ্ধি, হোয়াটস অ্যাপের কল রেট বৃদ্ধি ও বর্তমান সরকারের দুর্নীতির প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষ রাজধানী বৈরুতের রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছে।

লেবাননে করবিরোধী বিক্ষোভ থেকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়া চলমান বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অতি উৎসাহী কিছু সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশির অংশ নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কেবল অংশ গ্রহণই নয়, বিভিন্ন মিডিয়াতেও এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে দেখা গেছে অনেককে।

দূতাবাসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উদ্বিগ্ন লেবাননের বাংলাদেশ দূতাবাস ও বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা। দেশটির চলমান নাগরিক আন্দোলন সরকার ও জনগণের অভ্যন্তরীণ বিষয়। কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত হওয়া কিংবা মতামত দেয়া প্রবাসীদের অধিকার নেই।

তাই এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য সকল প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনুরোধ জানিয়েছে লেবাননে বাংলাদেশ দূতাবাস। আরও বলা হয়, অতি উৎসাহী কিছুসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি লেবাননের চলমান সরকার বিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন এবং মিডিয়াতে বক্তব্য দিচ্ছেন। বাংলাদেশি কর্মীদের এহেন কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে লেবাননে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীদের উপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। তাছাড়া অবৈধ বাংলাদেশীদের বৈধকরণ যে প্রক্রিয়া শুরুর পথে তাও বিঘ্নিত হওয়ার আশংকা করছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

southeast

স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো বলছে, বাজেট অধিবেশনকে সামনে রেখে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার অজুহাতে নিত্যপ্রয়াজনীয় ও ব্যবহার্য অনেক দ্রব্যের উপর কর আরোপ করছে সরকার। এমনকি হোয়াটঅ্যাপ ও ম্যাসেঞ্জার কলের উপরও কর আরোপ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে বৈরুতসহ পুরো লেবাননে বিক্ষোভ শুরু হয়। ছাত্র-জনতাসহ হাজার হাজার বিক্ষোভকারী রাস্তায় ময়লার ড্রাম ফেলে ব্যারিকেড দেয় এবং টায়ার পোড়ায়। সাধারণ জনগণ ও যানবাহনের ক্ষতিসাধন না করে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ চলেছে সবর্ত্র। সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও বেসরকারি অফিসগুলো বন্ধ ছিল। রাস্তায় হালকা যানবাহন চলাফেরা করে।

‘প্রবাসী ভাইবোনেরা’ সামাজিক সংগঠনের সভাপতি শরীফ খান খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাস্তা-ঘাটে বের না হওয়ার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানান।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের ব্যাপারে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন রাষ্ট্রদূতসহ দূতাবাস কর্মকর্তারা। সবাইকে সতর্কভাবে চলাফেরার পরামর্শও দেয়া হয়েছে। এদিকে শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৭২ ঘণ্টা সময় চাইলে বিক্ষোভকারীরা তা প্রত্যাখান করে এবং গভীর রাত অবধি রাস্তায় রাস্তায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এ সময় বৈরুতের রিয়াদ আল-সোলাহ স্কয়ারের আশপাশের এলাকাগুলো স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হয়।