হোম বিভাগীয় রোহিঙ্গা দুর্ধর্ষ হাকিম বাহিনীর হাতে দুই বোন অপহৃত

রোহিঙ্গা দুর্ধর্ষ হাকিম বাহিনীর হাতে দুই বোন অপহৃত

18
0
রোহিঙ্গা দুর্ধর্ষ হাকিম বাহিনীর হাতে দুই বোন অপহৃত

বিটিএন২৪ বিভাগীয় প্রতিনিধি: নিরাপত্তাজনিত শঙ্কায় রোহিঙ্গারা যেমন স্বভূমে ফিরতে রাজি নয়, তেমনি তাদের নানা অপকর্ম, যন্ত্রনায় অতিষ্ঠ স্থানীয়রা। আর এতে যারপরনাই বিরক্ত দেশের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে নীতি নির্ধারকরা। রোহিঙ্গা দুর্ধর্ষ সশস্ত্র বাহিনীর একের পর এক হামলা চালানোর ঘটনায় উখিয়া-টেকনাফ উপজেলার বাসিন্দারা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। গত শনিবার রাতেও সশস্ত্র রোহিঙ্গা বাহিনী পাহাড় থেকে নেমে আরো এক দফা হানা দিয়ে স্কুলছাত্রী দুই বোনকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে। টেকনাফের উপকূলীয় বাহারছড়া ইউনিয়নের বাইন্যাপাড়ায় এ ঘটনা ঘটেছে।

অপহৃত দুই বোন বাহারছড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। ডাকাত বাহিনী তাদের জন্য পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছে। রোববার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যা পর্যন্ত সময়েও তাদের উদ্ধার করা যায়নি।

টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানিয়েছেন, দুই মাস আগে টেকনাফের যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যাকাণ্ডে জড়িত রোহিঙ্গা সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের দলটির অন্তত সাত সদস্য পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। ওই দলটির অন্যদেরও ধরার চেষ্টা চলছে। পাহাড়ের গহিন এলাকায় অবস্থান নেওয়া রোহিঙ্গাদের সবচেয়ে দুর্ধর্ষ ডাকাত বাহিনীর প্রধান হিসেবে পরিচিত আবদুল হাকিম বাহিনীর সদস্যদের ধরার জন্য অনেকবার অভিযান চালানো হয়েছে। আবদুল হাকিমের এক ভাই ও তাঁর (হাকিম) স্ত্রী পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।

টেকনাফের পাহাড়ে রোহিঙ্গা সশস্ত্র বাহিনীর বেশ কয়েকটি দল রয়েছে। তাদের মধ্যে হাকিম বাহিনীর দলটি অন্যতম। এ বাহিনীতে শতাধিক সদস্য রয়েছে বলে জানা গেছে। হাকিম বাহিনীর অব্যাহত ডাকাতি, অপহরণ, হত্যা, লুটপাট ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় সীমান্ত জনপদের গ্রামবাসী অতীষ্ঠ হয়ে পড়েছে। মিয়ানমার থেকে বড় চালানের ইয়াবা পাচার থেকে শুরু করে পাহাড়ের আস্তানাগুলোকে বাহিনী সদস্যরা বানিয়েছে ইয়াবার ডিপো।

প্রায় এক দশক সময় ধরে রোহিঙ্গা হাকিম বাহিনীর দলটি টেকনাফের পাহাড়ে আস্তানা গেড়ে যাবতীয় অপরাধ কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। এত দিনেও বাহিনীটি ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। সর্বশেষ শনিবার রাতে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাইন্যাপাড়া গ্রামের হেডম্যান আবুল কালামের ঘরের দরজা ভেঙে তাঁর দুই মেয়েকে তুলে নিয়ে যায়। তারা ঘরের আলমারি ভেঙে নগদ ৬০ হাজার টাকা ও বেশ কিছু স্বর্ণালংকারও নিয়ে গেছে।

বাহারছড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি মেম্বর হুমায়ূন কাদের জানিয়েছেন, হাকিম বাহিনী এর আগে বাহারছড়া ইউনিয়নের বড় ডেইল এলাকার বাসিন্দা হাফেজ সালাউদ্দিনকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করেছে ১০ লাখ টাকা। একই এলাকার আবুল কাসেম নামের আরো এক ব্যক্তির দুই পুত্র অপহরণের পর পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করেছে। গত দুই মাসে হাকিম বাহিনীর একটি দলই পাঁচটি অপহরণের ঘটনা ঘটিয়েছে।

দমন-পীড়ন, নির্যাতন ও বিতাড়নের পন্থায় সমস্যার সমাধান করতে চেয়েছে মিয়ানমার। যার মর্মান্তিক ও অমানবিক উদাহরণ ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট ও তার পরবর্তী সময়ের ঘটনা। সেই ২৫ আগস্ট থেকে এক মাসের মধ্যে পাঁচ লাখ এবং পরে আরও দুই লাখ, মোট সাত লাখেরও অধিক রোহিঙ্গা নতুন করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। তাতে আগেরসহ মোট ১১ লাখেরও বেশি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা সীমাহীন নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ এবং অবস্থান করছে।