হোম আন্তর্জাতিক ‘মোদিকে পাকিস্তানের আকাশসীমায় ঢুকতে না দিলে জাতিসঙ্ঘের কিছু করার নেই’

‘মোদিকে পাকিস্তানের আকাশসীমায় ঢুকতে না দিলে জাতিসঙ্ঘের কিছু করার নেই’

19
0

বিটিএন২৪ ডটকম: জাতিসঙ্ঘের একটি বিশেষায়িত সংস্থার নাম আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইসিএও)। সম্প্রতি এই সংস্থায়ই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে ভারত। কি অভিযোগ? ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাষ্ট্রীয় সফরে যাবে সৌদি আরব। কিন্তু মোদিকে বহনকারী বিমানকে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি ইসলামাবাদ। এ সংক্রান্ত ভারতের অনুরোধও সরাসরি প্রত্যাখান করেছে পাকিস্তানের সরকার।

আর এরপরই জাতিসঙ্ঘের বিশেষায়িত সংস্থা আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইসিএও)-তে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে ভারত। ভারত আশা করেছিল, এবার হয়তো আইসিওএ’র হাত ধরে পাকিস্তানকে উচিত জবাব দিতে পারবে নয়াদিল্লি। কিন্তু ভারত যা আশা করেছিল; হলো ঠিক তার উল্টোটা।

ভারতের পক্ষ থেকে অভিযোগ জানানোর পর আইসিএও সরাসরি জানিয়ে দিয়েছে, পাকিস্তান নিজেদের আকাশসীমায় ভারতের বিমান ঢুকতে না দিলে তাদের কিছু করার নেই। কারণ আইসিওএ কেবল বেসামরিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারে। সামরিক বিমান বা কোনো দেশের প্রধানমন্ত্রী বা জাতীয় নেতৃবৃন্দকে বহনকারী বিমানগুলোর বিষয়ে তাদের কিছু করার নেই। কারণ সামরিক বিমান বা কোনো দেশের প্রধানমন্ত্রী বা জাতীয় নেতৃবৃন্দকে বহনকারী বিমানগুলোকে ‘রাষ্ট্রীয় বিমান’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, সেগুলোর বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা তাদের নেই।

আইসিএও-র মুখপাত্র বলেছেন,‘শিকাগো কনভেনশন অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রেই কোনো দেশের সরকারকে সহযোগিতা করতে পারে আইসিএও, কিন্তু কোনো রাষ্ট্রীয় বা সামরিক বিমানের ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা নেই আন্তর্জাতিক সংস্থাটির।

তিনি আরো বলেন,‘কোনো দেশের প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি বা জাতীয় নেতৃবৃন্দকে বহনকারী বিমানগুলো রাষ্ট্রীয় বিমান হিসাবে বিবেচিত হয় এবং তাই সেসব বিমানগুলো আইসিএও-র বিধানের মধ্যে পড়ে না।’

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা বা আইসিএও হল জাতিসঙ্ঘের একটি বিশেষ সংস্থা। যার প্রধান কাজ হল আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল (শিকাগো কনভেনশন অনুযায়ী) সম্পর্কিত বিষয়গুলো পরিচালনা করা ও সেদিকে নজর রাখা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সৌদি আরব সফরের আগে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করতে চেয়ে করা নয়াদিল্লির অনুরোধ প্রত্যাখান করে ইসলামাবাদ। এরপরেই ভারত আইসিএও-র কাছে প্রধানমন্ত্রী মোদির বিমান চলাচলে পাকিস্তানের অসহযোগিতার কথা তুলে ধরে অভিযোগ করে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি এক বিবৃতিতে বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদিকে বহনকারী বিমানকে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। গত সেপ্টেম্বর মাসেও জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেয়ার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময়ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির বিমানকে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেয়নি পাকিস্তান।