হোম আলাপচারিতা মন্ত্রিত্বের বিনিময়ে আত্মাকে বন্ধক দিয়ে রেখেছিলেন রাশেদ খান মেনন

মন্ত্রিত্বের বিনিময়ে আত্মাকে বন্ধক দিয়ে রেখেছিলেন রাশেদ খান মেনন

12
0
মন্ত্রিত্বের বিনিময়ে আত্মাকে বন্ধক দিয়ে রেখেছিলেন রাশেদ খান মেনন
মারুফ কামাল খাঁন

মারুফ কামাল খাঁন

মন্ত্রিত্বের বিনিময়ে আত্মাকে বন্ধক দিয়ে রেখেছিলেন রাশেদ খান মেনন। বাদ পড়ার পরেও অনেকদিন অপেক্ষায় ছিলেন যদি আবার ডাক পড়ে- এই আশায়। শিঁকে ছেড়েনি। এ অবস্থায় দুটো সত্য কথা বলে ফেলেছেন তিনি। এটা পেয়ে হারাবার বেদনা বা না পাওয়ার ক্ষোভ থেকে হতে পারে।
আবার রাজনীতির নানান অপকৌশল থাকে। অনেক সময় কড়া কড়া কথা বলা হয়, বিদ্রোহীর ভাব ধরা হয় ক্ষমতাসীনদের কাছ থেকে কিছু আদায় করার কৌশল হিসেবে। প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত মন্ত্রিত্ব বঞ্চিত হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে নানান বিদ্রুপাত্মক কথাবার্তা বলার পর শেখ হাসিনা তাকে মন্ত্রী বানিয়ে মন্তব্য করেছিলেন: মুখ বন্ধ করলাম।

সচতুর পলিটিশিয়ানরা অনেক সময় ওয়েদার ককের মতন সরকারের আসন্ন দুর্যোগের আভাস আগে ভাগেই টের পেয়ে যান। তখন তারা অতিদ্রুত ক্ষমতাসীনদের পাটাতন থেকে নেমে পড়েন, তাদের সাথে দূরত্ব সৃষ্টি করতে ভোল পাল্টে ফেলেন।

জনাব মেননকে সত্য জানার পরেও উল্টোকথা বলতে দেখেছে এদেশের মানুষ। আওয়ামীলীগে যোগদানকারী সাবেক সর্বহারা পার্টি ক্যাডার তাকে হত্যার লক্ষ্যে গুলী করে। জীবন-মরণের সন্ধিক্ষণ থেকে বেঁচে এসেও তিনি এ হামলার জন্য জামায়াতকে দায়ী করেছেন। তিনি মন্ত্রী থাকতে আওয়ামী কর্মীদের প্রতিও এতোটাই অন্ধ ছিলেন যে, ওরা তাকে দিয়ে স্পোর্টিং ক্লাবের নামে জুয়ার আখড়াও উদ্বোধন করিয়ে নিতে পেরেছে।
সেই মেনন সাহেব কোন কারণে আচানক সত্যকথনে সোচ্চার হয়েছেন তা বুঝতে সময় লাগবে। যদি তিনি রাগের মাথায় মুখ ফস্কে সত্যটা বলে থাকেন তাহলে চাপের মুখে আবার কথা বদলাতেও পারেন। কোনোকিছু পাওয়ার কিংবা আদায়ের দরকষাকষির কৌশল হলে তিনি পেয়েই বদলে যাবেন।

আর যদি আভাস পেয়ে থাকেন অনাগত ঘূর্ণিঝড়ের তাহলে তার এই বচন বহাল থাকবে এবং আরো জোরালো হবে।
তবে যে উদ্দেশ্যে বা যে কারণেই বলে থাকুন, কথাগুলো কিন্তু চরম সত্য। তিনি নিজেকে সাক্ষীরুপে উপস্থাপন করে বলেছেন, তিনি সহ যারাই নির্বাচিত হয়েছে তার সবই কারসাজির। ভোটারদের ভোট দিতে দেয়া হয়নি। তিনি বলেছেন, উন্নতির প্রচারণার আড়ালে মানুষের সব অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে এবং ব্যাপক দুর্নীতি হচ্ছে। ক্যাসিনো অভিযানের নামে ছিঁচকে কিছু দুর্নীতিবাজ ধরা হলেও মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে। এদেরকে কবে ধরা হবে সে প্রশ্ন তুলেছেন জনাব মেনন।
তার এই সত্য কথাগুলোকে জোরালো সমর্থন জানাচ্ছি। শয়তানও যদি বলে “আল্লাহ্ এক” তাহলে শয়তানের বিরোধিতার কারণে আমি তার সেই উক্তিকে অসত্য বলবো না।
তবে কেবল সত্য উচ্চারণ করাই যথেষ্ট নয়। কারসাজির নির্বাচনের সংসদ থেকে মেনন সাহেবের এ মুহূর্তে পদত্যাগ করা জরুরি। নৈতিকতার দাবি সেটাই। আর তার উচিত হচ্ছে ভোট দেয়ার অধিকার সহ জনগণের সব অধিকার পুনরুদ্ধার করতে এবং দুর্নীতির আসল হোতাদের ধরার দাবিতে আন্দোলন করা। তাহলেই বুঝা যাবে বন্ধক রাখা আত্মা তিনি ফিরে পেয়েছেন।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)