হোম অর্থনীতি ভয়াবহ পতনের কবলে পুঁজিবাজার

ভয়াবহ পতনের কবলে পুঁজিবাজার

ভয়াবহ পতনের কবলে পুঁজিবাজার

বিটিএন২৪ রিপোর্ট: ভয়াবহ পতনের কবলে পড়েছে দেশের পুঁজিবাজার। প্রতিদিনই বড় দরপতন হচ্ছে। চলতি সপ্তাহে লেনদেন হওয়া চার কার্যদিবসেই বড় দরপতন হওয়ায় দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক কমেছে প্রায় আড়াইশ পয়েন্ট। একই সঙ্গে দামের পতন হয়েছে সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানেরই। তবে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করছেন বলেই এমন পতন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভয়াবহ এমন পতনের ফলে প্রতিনিয়তই বেড়ে চলেছে পুঁজিহারা বিনিয়োগকারীদের আর্তনাদ। কিন্তু তারা তাদের বিনিয়োগ করা পুঁজি রক্ষার কোনো উপায় পাচ্ছেন না। এতে মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েছেন অনেক বিনিয়োগকারী।

আগের তিন কার্যদিবসের ধারাবাহিকতায় বুধবারও (৮ জানুয়ারি) দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেয়া প্রায় সবকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। এদিন ডিএসইতে মাত্র ৫১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২৪৯টির। আর ৫১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এতে ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৫৩ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ২২৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এর মাধ্যমে টানা চার দিনের বড় পতনে ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক কমেছে ২৩১ পয়েন্ট। এতে ২০১৬ সালের ২ মে-র পর সূচকটি সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে গেছে।

শেয়ারবাজারে এমন ভয়াবহ পতনের বিষয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. বখতিয়ার হাসান বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের আস্থা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। বাজারের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা না থাকায় এমন পতন হচ্ছে। এ দরপতনের যুক্তি সংগত কোনো কারণ নেই।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান দরপতনের চিত্র দেখে মনে হচ্ছে, বড় বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়াচ্ছে। হতে পারে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করছেন। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার অস্থিরতা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বাজারে বিদেশিদের বিনিয়োগ বেশি না হলেও, তারা যখন শেয়ার বিক্রি করেন তখন এক ধরনের আতঙ্ক দেখা দেয়। বড় বড় ব্রোকারেজ হাউজ থেকেও শেয়ার বিক্রি করে দেয়া হয়। যা সার্বিক বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।’

ডিএসইর এক সদস্য বলেন, ‘শেয়ারবাজারে এখন যে বড় দরপতন হচ্ছে তার মূল কারণ, বিদেশিরা শেয়ার বিক্রি করছেন। বিদেশিদের শেয়ার বিক্রির চাপ বাজার নিতে পারছে না। এর সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা না থাকায় দরপতন হচ্ছে।’

শেয়ারবাজারের এই পতনের বিষয়ে বিনিয়োগকারী সোহাগ বলেন, ‘ইতোমধ্যে বিনিয়োগ করা অর্থের অর্ধেক নাই হয়ে গেছে। কোনোভাবেই লোকসান কাভার করতে পারছি না। এখন যেভাবে পতন শুরু হয়েছে বুঝতে পারছি না, পোর্টফোলিও কী অবস্থায় দাঁড়ায়। মানসিকভাবে প্রচণ্ড ভেঙে পড়েছি। যে শেয়ার কিনছি তাতেই লোকসান হচ্ছে।’

উল্টো যাত্রায় বাছাই করা সূচক-

২০১৩ সালের ২৭ জানুয়ারি বাছাই করা ভালো ৩০টি কোম্পানি নিয়ে যাত্রা শুরু করে ডিএসই-৩০ সূচক। ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত এ সূচকটি বর্তমানে করুণ দশায় রয়েছে। এদিন ১৪ পয়েন্ট পতনের মাধ্যমে সূচকটি ১ হাজার ৪২১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। যাত্রা শুরুর সময় সূচকটি ছিল ১ হাজার ৪৬০ পয়েন্টে। অর্থাৎ বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসইর সূচকটি বাড়ার এরিয়া ভেঙে প্রতিনিয়ত তলানিতে যাচ্ছে।’

শুরুর কাছাকাছি ইসলামি সূচক-

ভয়াবহ পতনের কবল থেকে রক্ষা পাচ্ছে না ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ সূচক। বুধবার লেনদেন শেষে সূচকটি ১৯ পয়েন্ট কমে ৯৫৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এতে সূচকটি প্রায় শুরুর অবস্থানে ফিরে গেছে। ২০১৪ সালের ২০ জানুয়ারি চালু হওয়া এ সূচকটি শুরুতে ছিল ৯৪১ পয়েন্টে।

চলেছে লেনদেন খরা-

দরপতনের সঙ্গে শেয়ারবাজারে দেখা দিয়েছে লেনদেন খরা। ধারাবাহিকভাবে কমতে কমতে ডিএসইর লেনদেনও তলানিতে নেমেছে। শেষ ২০ কার্যদিবসের মধ্যে একদিনও ডিএসইর মোট লেনদেন ৪০০কোটি টাকার ঘর স্পর্শ করতে পারেনি। বাজারটিতে লেনদেনের পরিমাণ ২০০-৩০০ কোটি টাকার ঘরে আটকে আছে। এদিন লেনদেন হয়েছে ২৭৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৩২৭ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। সে হিসাবে লেনদেন কমেছে ৪৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

চাকরি হারানোর শঙ্কায় ব্রোকারেজ হাউজের কর্মকর্তারা-

শেয়ারবাজারে ধারাবাহিক দরপতনের কবলে পড়ায় চাকরি হারানোর শঙ্কায় ভুগছেন অনেক ব্রোকারেজ হাউজের কর্মকর্তারা। একাধিক ব্রোকারেজ হাউজের লেনদেন তদারকির দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তারা জানান, ব্রোকারেজ হাউজগুলোর আয়ের বড় অংশ আসে লেনদেন থেকে। কিন্তু লেনদেন কমায় অধিকাংশ ব্রোকারেজ হাউজ লোকসানে আছে। আবার নিজেদের শেয়ার ব্যবসা থেকেও লাভ আসছে না। এ কারণে খরচ কমাতে ব্রোকারেজ হাউজের মালিকরা যেকোনো সময় ছাঁটাই প্রক্রিয়া চালাতে পারে।

সিএসইতেও করুণ দশা-

ডিএসইর মতো করুণ দশা বিরাজ করছে অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই)। বাজারটির সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১২২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৮৮৭ পয়েন্টে। লেনদেন হয়েছে ১৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। লেনদেন অংশ নেওয়া ২১৯ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ৪৭টির, কমেছে ১৪৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৬টির।