হোম জাতীয় ভোলার ঘটনার প্রতিবাদে রাজধানীতে সড়ক অবরোধ

ভোলার ঘটনার প্রতিবাদে রাজধানীতে সড়ক অবরোধ

18
0
ভোলার ঘটনার প্রতিবাদে রাজধানীতে সড়ক অবরোধ

বিটিএন২৪ রিপোর্ট: রাজধানীর মোহাম্মদপুরের টাউন হল সড়ক অবরোধ করে ভোলার বোরহানুদ্দিন উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত চারজনের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন মুসল্লিরা। তারা বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন।

সোমবার (২১ অক্টোবর) বেলা ১১টা ৩০ মিনিটের দিকে মোহাম্মদপুরের টাউন হলের আল্লাহ্ করিম মসজিদ ও মসজিদ সংলগ্ন সড়কে এই অবরোধ ও বিক্ষোভ শুরু হয়।

মোহাম্মদপুর থানার ডিউটি অফিসার এএসআই বাদল গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিষয়টি নিয়ে পুলিশ জানায়, মুসল্লিরা বিক্ষোভে ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণা কনসাসনেসের (ইসকন) কার্যক্রম বন্ধের দাবি তুলেছেন। এ ছাড়া ‘রসূল (সা.)-এর জন্য উৎসর্গ করা রক্ত বৃথা যেতে দেব না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন।

প্রসঙ্গত, রবিবার (২০ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মহানবীকে (সা.) কটূক্তি করার জের ধরে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেন স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়। এ ঘটনায় পুলিশের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষের জেরে চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও শতাধিক গ্রামবাসী। 

জানা যায়, শুক্রবার উপজেলার কাচিয়া ২ নম্বর ওয়ার্ডের বিপ্লব নামে এক যুবকের ফেসবুক পোস্ট কেন্দ্র করে উপজেলাজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার ওই যুবকসহ আরও একজনকে আটক করে পুলিশ। 

পুলিশ বিপ্লব চন্দ্র শুভকে থানায় আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। এ ঘটনায় বিপ্লবের ফাঁসির দাবি করে পুরো মুসলিম জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন।

স্থানীয় জনতার দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ধর্মীয় বিষয় নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়ার প্রতিবাদে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় পূর্বনির্ধারিত প্রতিবাদ সমাবেশে একত্রিত হন মুসল্লিরা।

এ সময় শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সমাবেশে পুলিশ বাধা দেয় ও তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে কাঁদানি গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এতে তাদের চারজন নিহত হন। এ ছাড়া মুসল্লিদের শতাধিক লোক আহত হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, শুভ নামে একজনের ফেসবুক আইডি হ্যাকড হয়েছিল গত ১৮ অক্টোবর। এরপর হ্যাকারদের গ্রেফতার করা হয়। তারা পুলিশি হেফাজতে। এই বিষয় নিয়ে গতকাল এলাকার স্থানীয় প্রতিনিধি গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং আলেমদের সঙ্গে বসেছিলাম। তাদের পূর্ব নির্ধারিত প্রোগ্রাম আজকে হওয়ার কথা ছিল না। এরপর সকালে দেখলাম তারা স্টেজ বানাচ্ছেন। প্রথমে শান্তিপূর্ণভাবেই কর্মসূচি হচ্ছিল। 

পুলিশের দাবি, তারা শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখতে ঘটনাস্থলে সব কার্যক্রম পরিচালিত করছেন। হঠাৎ করে কিছু উচ্ছৃঙ্খল জনতা তাদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় তাদের ধাওয়া দেওয়া হয়।

এ সময় তারা মসজিদের দ্বিতীয় তলায় আশ্রয় নেন। সেখানে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে তাদের ১০-১২ পুলিশ সদস্য আহত হন। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় প্রায় ১২-১৩ জনকে আটক করা হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

রবিবার বেলা ১১টার দিকে বোরহানউদ্দিন হাইস্কুল মাঠে পূর্বঘোষিত একটি সমাবেশ চলছিল। এ সময় পুলিশ সমাবেশ সময়ের আগে শেষ করতে বলায় জনতা বিক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে। এতেই পুলিশ-জনতার এ সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন এবং আহত হন কমপক্ষে শতাধিক।

নিহতরা হলেন- মাহাফুজ, মিজান, আবু তাহের ও মাহাবুব। মাহফুজুর রহমান বোরহানউ‌দ্দিন পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়া‌র্ডের সা‌বেক ক‌মিশনার মিরাজ পা‌টোয়া‌রির ভাই। আহতদের ভোলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের সূচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি এহসান উল্লাহ। তিনি জানান, মুসল্লিরা হঠাৎ করে পুলিশের ওপর হামলা চালায়, পুলিশ আত্মরক্ষার জন্য প্রথমে ফাঁকা গুলি চালায়। এরপরও উত্তেজিত জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করলে, পুলিশ গুলি ছুঁড়ে। পরবর্তীতে জানতে পারে ৩ জন নিহত হয়েছে।

এলাকাবাসীর তথ্যমতে জানা যায়, ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া ২ নম্বর ওয়ার্ডের বিপ্লব কুমার শুভ নামক একজন ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে মহান আল্লাহ ও তার নবী মুহাম্মদকে (স.) নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। এরই প্রতিবাদে তারা সমাবেশ করলে পুলিশের বাধার মুখে সেখানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।