হোম অর্থনীতি ‘ভালো’ শেয়ারে আগ্রহ বেড়েছে বিনিয়োগকারীদের

‘ভালো’ শেয়ারে আগ্রহ বেড়েছে বিনিয়োগকারীদের

27
0
‘ভালো’ শেয়ারে আগ্রহ বেড়েছে বিনিয়োগকারীদের

বিটিএন২৪ রিপোর্ট: ‘এ’ গ্রুপ বা ভালো কোম্পানির শেয়ারের প্রতি পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে। ফলে লেনদেনে বেড়েছে ‘এ’ গ্রুপের কোম্পানির অবদান। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে সার্বিক শেয়ারবাজারেও। ফলে টানা তিন সপ্তাহ পতনের পর গত সপ্তাহে মূল্যসূচক কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী ছিল।

মূল্য সূচক ঊর্ধ্বমুখী হলেও সপ্তাহজুড়ে লেনদেনে অংশ নেয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমে। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহজুড়ে লেনদেনে অংশ নেয়া ২৫৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯০টির দাম বাড়ে। বিপরীতে দাম কমে ২৪৪টির। ২১টির দাম অপরিবর্তিত থাকে।

বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমলেও বড় মূলধনের অনেক কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ে। এ কারণে ঊর্ধ্বমুখী হয় মূল্যসূচক। সেই সঙ্গে বাড়ে বাজার মূলধনের পরিমাণ।

গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়ায় ৩ লাখ ৬১ হাজার ৯২ কোটি টাকা, যা তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৩৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে ২ হাজার ৫৯ কোটি টাকা।

এদিকে গত সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১ দশমিক শূন্য ১ পয়েন্ট বা দশমিক শূন্য ২ শতাংশ হয়। আগের সপ্তাহে এ সূচকটি কমে ছিল ৩৯ দশমিক ২২ পয়েন্ট বা দশমিক ৮২ শতাংশ।

অপর দুটি সূচকের মধ্যে গত সপ্তাহে ডিএসই-৩০ আগের সপ্তাহের তুলনায় কমে ৩ দশমিক ৯২ পয়েন্ট বা দশমিক ২৩ শতাংশ। আগের সপ্তাহে এ সূচকটি কমে ২৫ দশমিক ৫২ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৫০ শতাংশ।

গত সপ্তাহে ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক বাড়ে ২ দশমিক ৩৬ পয়েন্ট বা দশমিক ২২ শতাংশ। আগের সপ্তাহে এ সূচকটি কমে ১৭ দশমিক ৩৩ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৫৬ শতাংশ হয়।

সপ্তাহজুড়ে লেনদেনে খরা অব্যাহত থাকায় ডিএসইতে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। গত সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয় ৩০৯ কোটি ১১ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ৩১২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন কমেছে ৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা বা ১ দশমিক ১৭ শতাংশ।

গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয় ১ হাজার ৫৪৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় ১ হাজার ৫৬৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। সে হিসাবে মোট লেনদেন কমেছে ১৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা।

গত সপ্তাহের মোট লেনদেনের মধ্যে ‘এ’ গ্রুপের প্রতিষ্ঠানের অবদান দাঁড়িয়েছে ৮১ দশমিক ৪৭ শতাংশ, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৭৯ দশমিক ৪৫ শতাংশ। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে লেনদেনে ‘এ’ গ্রুপ বা ভালো প্রতিষ্ঠানের অবদান ২ বেড়েছে দশমিক শূন্য ২ শতাংশ।

‘এ’ গ্রুপের প্রতিষ্ঠানের লেনদেন বাড়ায় কমেছে ‘বি’ গ্রুপের প্রতিষ্ঠানের লেনদেনের পরিমাণ। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১২ দশমিক ৪০ শতাংশ ছিল ‘বি’ গ্রুপের দখলে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ১৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

এ ছাড়া মোট লেনদেনে ‘জেড’ গ্রুপের প্রতিষ্ঠানের অবদান ১ দশমিক ২৪ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ১ দশমিক ৭৪ শতাংশ। আর ‘এন’ গ্রুপের অবদান দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৪০ শতাংশ, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৩ দশমিক ৭২ শতাংশ।

গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয় ন্যাশনাল টিউবসের শেয়ার। কোম্পানিটির ৬০ কোটি ৯৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা সপ্তাহজুড়ে হওয়া মোট লেনদেনের ৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা গ্রামীণফোনের শেয়ার লেনদেন হয় ৪১ কোটি ২৪ লাখ টাকার, যা সপ্তাহের মোট লেনদেনের ২ দশমিক ৬৭ শতাংশ। ৩৮ কোটি ৫৮ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে মুন্নু জুট স্টাফলার্স।

লেনদেনে এরপর রয়েছে- ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক, সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স, প্রিমিয়ার ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, সিলকো ফার্মাসিউটিক্যালস এবং প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স।