হোম জাতীয় বিএনপির অঘোষিত মিছিল, আহত ২০

বিএনপির অঘোষিত মিছিল, আহত ২০

বিএনপির অঘোষিত মিছিল, আহত ২০
বিএনপির অঘোষিত মিছিল, আহত ২০ - ছবি : নয়া দিগন্ত

বিটিএন২৪ রিপোর্ট: অনুমতি না নিয়ে সমাবেশ করার ঘোষণা দেয়ার ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই মঙ্গলবার রাজধানীতে বিএনপির নেতা-কর্মীরা বড় শোডউন দিয়েছে। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে সহস্রাধিক নেতা-কর্মীর একটি অঘোষিত মিছিল হাইকোর্টের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়ার পর পুলিশ তা টিয়ারশেল ও ব্যাপক লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এসময় ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ বেঁধে যায়। ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুর করা হয় বেশ কয়েকটি গাড়ি। পুলিশের লাঠিপেটা ও টিয়ারশেল নিক্ষেপে ২০ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার দুপুরে হঠাৎ করেই ১টার দিকে রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের ব্যনারে একটি বিশাল মিছিল জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে শুরু হয়ে হাইকোর্টের দিকে অগ্রসর হয়। শ্লোগান তুলে মিছিলটি কদম ফোয়ারা হয়ে হাইকোর্টের দ্বিতীয় গেটে গিয়ে অবস্থান নেয়। এসময় নেতা-কর্মীদের অনেকেই রাস্তায় শুয়ে পরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। ‘জেলের তালা ভাঙবো, খালেদা জিয়াকে আনবো’, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই, দিতে হবে দিতে হবে’, ‘বেগম জিয়া ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’, ‘শেখ হাসিনা গদি ছাড়ো, ছাড়তে হবে’-এ ধরনের শ্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে হাইকোর্ট এলাকা। আশপাশের রাস্তাগুলোও অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। হাইকোর্ট থেকে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরাও মিছিলে এসে যোগ দেন।

মিছিলে ও অঘোষিত অবস্থান কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, হাফিজ উদ্দিন আহমদ, শওকত মাহমুদ ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. আবু জাফর, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাৎ, ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।

এসময় আব্দুল্লাহ আল নোমান সাংবাদিকদের বলেন, আমরা কোনও অসাংবিধানিক কাজ করছি না। দেশনেত্রীর মুক্তির দাবিতে হাজার হাজার নেতাকর্মী ঘর ছেড়ে আজ রাজপথে নেমেছে। রাজপথই আমাদের ঠিকানা। যতক্ষণ পারি ততক্ষণ অবস্থান করবো। পুলিশ যেন আমাদেরকে উস্কানি না দেয়।

তিনি বলেন, আজকে রাস্তায় নামাটা অসাংবিধানিক নয় এবং আইন বিরোধীও নয়। জনগণ রাষ্ট্রক্ষমতার মালিক হওয়া সত্ত্বেও সকল কিছু থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দেশে বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামছাড়া ঊর্ধ্বগতি। পেঁয়াজ, চাল, তেল জনগণের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। এসকল বিষয় নিয়ে আমাদের বিরোধীদলের আন্দোলন করার অধিকার আছে। জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার জন্য আন্দোলন করার অধিকার আমাদের আছে।

বর্তমান সরকারের উদ্দেশ্যে নোমান আরও বলেন, অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন। দেশ চালাতে ব্যর্থতার দায় নিয়ে পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে পুননির্বাচন দিন।

এসময় তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা আন্দোলন, মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি করছি। এটা সংবিধান বহির্ভূত নয়। তাই আপনাদেরকে আহ্বান জানাব- আমাদের নেতাকর্মীদেরকে বাধা না দিয়ে আমাদের কর্মসূচি পালন করতে দিন। আপনাদের কাছ থেকে কোনও ধরনের উস্কানি প্রত্যাশিত নয়।

তার এই বক্তব্য শেষ হতে না হতেই টিয়ারশেল ছুড়তে শুরু করে পুলিশ। একইসাথে ব্যাপক লাঠিপেটা করে তারা। বিএনপির ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরাও চড়াও হলে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ইট পাটকেল নিক্ষেপ। বেশ কিছু গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। পুলিশের উপর্যুপরি হামলায় এক পর্যায়ে নেতা-কর্মীরা রাস্তা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। প্রায় সোয়া এক ঘন্টা অবস্থান এবং পুলিশের হামলার পর দুপুর আড়াইটার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) সাজ্জাদুর রহমান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ধাওয়া পদয়। এ সময় বিচ্ছিন্ন হয়ে যান বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা বেশ কয়েকটি গাড়ির গ্লাস ভাঙচুর করে। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি।

এর আগে জাতীয় প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের উদ্যোগে বেগম জিয়ার মুক্তি, অবৈধ সরকারের পদত্যাগ ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে মুক্তিযোদ্ধা-জনতা সংহতি সমাবেশ হয়। এতে সকল নেতাকর্মী ও জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ন্যায়-নীতির দিক থেকে যতক্ষণ না পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে ততক্ষণ পর্যন্ত চলুন রাজপথে সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তুলি। চলুন একযোগে রাজপথে নামি।

তিনি বলেন, আজ দেশের যে অবস্থা তাতে মুক্তিযুদ্ধের গৌরব ভূলুণ্ঠিত হয়ে গেছে। মুক্তিযোদ্ধাদের সেই গৌরব ফিরিয়ে আনতে হলে এবং বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে চাইলে রাজপথে নামতে হবে।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বিচারপতিরা অনেক আগেই সাহস হারিয়ে ফেলেছে। দেশকে শোধরানোর দায়িত্ব শুধু বিচারপতিদের হাতে দিলে হবে না। কারণ উনারা উনাদের বিবেক অনেক আগেই হারিয়ে ফেলেছে। ৫ জন বিচারপতিও একসাথে বসে বলতে পারলেন না- ‘মানবিক কারণে খালেদা জিয়ার জামিন অনেক আগেই দেওয়ার উচিত ছিল।

তিনি আরও বলেন, বিচারপতিদের এই সাহস জোগানোর জন্য আমাদের একটাই কাজ করতে হবে। আমাদের সবাইকে রাজপথে হাজির হতে হবে। রাজপথে হাজির হয়ে হাইকোর্টের চতুর্দিকে দাড়িয়ে বলতে হবে- মানবিক কারণেই হোক আর যে কারণেই হোক বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। তাহলেই বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে।

মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী ও ডিইউজের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী প্রমুখ।