fbpx
হোম আনন্দ বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে চ্যাম্পিয়ন ফিলিস্তিন

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে চ্যাম্পিয়ন ফিলিস্তিন

9
বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে চ্যাম্পিয়ন ফিলিস্তিন
বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে চ্যাম্পিয়ন ফিলিস্তিন-ছবি : সংগৃহীত

বিটিএন২৪ রিপোর্ট: শুরুর দিকে গোল খাওয়াটা পুরনো অভ্যাস বুরুন্ডির। গ্রুপ পর্বে দুই ম্যাচে তারা পিছিয়ে পড়েও পরে ঘুরে দাঁড়ালেও শনিবারের ফাইনালে আর পারেনি। নেপথ্য ফাইনালের প্রতিপক্ষ যে ফিলিস্তিন। মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি যে সব সাইডেই অগ্রবর্তী অবস্থানে। ফিলিস্তিন (১০৬) , বুরুন্ডি (১৫১)। তাই আজ আর বুরুন্ডির গোল উৎসব নয়। উল্টো তাদের জালে তিনবার বল পাঠিয়ে শিরোপা ধরে রাখলো ফিলিস্তিন। ২০১৮ সালেও চ্যাম্পিয়ন হয়েছির তারা। সেবার ফিলিস্তিন ফাইনালে হারের স্বাদ দিয়েছিল মধ্য এশিয়ান দেশ তাজিকিস্তানকে।

এদিকে শনিবার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ জিতে এই আসরে একটি রেকর্ডও গড়লো ফিলিস্তিন। টানা দুইবার ট্রফি জয়। আর দেশটির ফুটবল ইতিহাসে এটি চতুর্থ সাফল্য। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ছাড়া আল নাকবা কাপ এবং এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপ জয়ের কৃতিত্ব আছে তাদের। আজ ফাইনাল শেষে চ্যাম্পিয়ন দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী আসরে অংশ নেয়া সব দলকে অভিনন্দন জানান। চ্যাম্পিয়ন দল ট্রফি ও ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার পেয়েছে। আর রানার্সআপ বুরুন্ডি পেয়েছে ট্রফির সাথে ২০ হাজার ডলার।

শক্তিশালী আক্রমণভাগ ভাগেই বুরুন্ডির প্রধান শক্তি। আগের ম্যাচগুলোতে তারা এভাবেই একে একে পার পায় মরিশাস, সেশেলস এবং বাংলাদেশের বিপক্ষে। ডিফেন্স লাইন নিয়ে তেমন মাথা ব্যাথা ছিল আফ্রিকান এই দেশটির। গত কয়েকদিনে বেশ কয়েকবার এ কথা উল্লেখ করেছিলেন বুরুন্ডির কোচ জসলিন বিপুভসা। তবে আজ তার এই অ্যাটাকিং নির্ভর ফুটবলে কোনো কাজ হয়নি। সাত গোল দিয়ে আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতা জসপিন শিমিরিমানা আজ ব্যর্থ। ফিলিস্তিনের সূদৃঢ় রক্ষনপ্রাচীর ভাঙ্গতে পারেনি। সাথে ফিলিস্তিনের বিশালদেহী গোলরক্ষক তৌফিক আবু হামাদ ছিলেন আরেক বাধা। যে কারণে ম্যাচের ১০ মিনিটেই ফিলিস্তিন সেই যে ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ নেয়, জোড়া গোলে লিড নিয়ে সে ধারাই অব্যাহত থাকে। ২৬ মিনিটে তাদের তৃতীয় গোল। মাঠে আসা এবং টিভি পর্দার সামনে থাকা ফুটবলপ্রেমীরা জমজমাট এবং উপভোগ্য যে ফাইনালের আশা করেছিলেন সেটার ইতি ঘটে তখনই।

ফিলিস্তিন ভালোই করেই জানতো বুরুন্ডির রক্ষনভাগে সমস্যা আছে। গোল করতে হবে শুরুতেই। এই লক্ষ্যে ম্যাচের তিন মিনিটেই লিড তাদের। সামেহ মারাবাহ’র থ্রু থেকে বল পেয়ে বক্সে তা ফেলেন মোহাম্মদ দারউইশ। তাতে শট নিয়ে দলকে এগিয়ে নেন খালেদ সালেম। শুরুর এই ধাক্কা কাটিয়ে উঠার কোনো সুযোগই বুরুন্ডিকে দেয়নি প্রতিপক্ষরা। অবশ্য তাতে বুরুন্ডির গোলরক্ষক আইমে ফালিসের ভুলও যোগ হয়। ১০ মিনিটে কর্নার থেকে আসা বল তিনি ঠিক মতো ফিষ্ট করতে পারেননি। তা পড়ে সামেহ মারাবাহ’র কাছে। ইসরাইলি কারাগারে একবছর বন্দী থাকা হামাসের সমর্থক এই ফরোয়ার্ড আলতো যে টোকা দেন তা বিপক্ষ ডিফেন্স লাইন টপকে গোললাইন অতিক্রম করে ফিরে আসে মাঠে। নেপালী সহকারী রেফারী গোলের সংকেত দিলে পুনরায় উল্লাসে মাতে ফিলিস্তিনিরা। ২১ মিনিটে বুরুন্ডি ব্যবধান কমানোর সুযোগ পেলেও তা কাজে আসেনি মাসুদি নারসিসের শট ফিলিস্তিনের গোলরক্ষর রুখে দেয়ায়।

২৬ মিনিটে ম্যাচের সব উত্তেজনা শেষ করে দেয় ফিলিস্তিন। খালেদ সালেমের শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে তাতে শট নিয়ে দলের স্কোর ৩-০ করেন লাইত খারোব। দুই হ্যাটট্রিক করা জসপিন ৩৮ মিনিটে গোলের সুযোগ পেলেও তাতে বাধা ফিলিস্তিনের দীর্ঘদেহী কিপার। ৬০ মিনিটে কর্নার থেকে আনা বলে আলতো টোকায় বুরুন্ডির আসমান ডিকিমুনার গোল ব্যবধান কমানো ছাড়া আর কোনো ভূমিকা রাখেননি। এটিই ফিলিস্তিনের জালে এবার প্রথম বল যাওয়া।

টুর্নামেন্ট সেরা ও সর্বোচ্চ গোলদাতা: জসপিন শিমিরিমান (বুরুন্ডি)
ফাইনাল সেরা: সামেহ মারাবাহ (ফিলিস্তিন)
সেরা গোলরক্ষক : তৌফিক আবু হামাদ (ফিলিস্তিন)
ফেয়ার প্লে: ফিলিস্তিন