fbpx
হোম আন্তর্জাতিক পাকিস্তান তার আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্ক হারাচ্ছে

পাকিস্তান তার আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্ক হারাচ্ছে

47
পাকিস্তান তার আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্ক হারাচ্ছে
ফাইল ফটো

বিটিএন২৪ ডটকম: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সম্প্রতি দাভোস বিশ্ব অর্থনৈতিক সামিটে যাবার সময় ভয়াবহ বিক্ষোভের মুখে পড়েন। বিক্ষোভকারীরা সিন্ধু ও বালুচিস্তান প্রদেশে পাকিস্তান সৈন্যবাহিনীর চালানো বর্বরতার নিষ্ঠুর আচরণের জন্য বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।

১৯৪৭ সালে সামরিক অভিযান চালিয়ে দখল করে নেয়া বালুচিস্তানে পাকিস্তান সম্প্রতি যে মানবাধিকার লংঘন করছে, সে বিষয়টিই সামনে চলে এসেছে। সেখানে সীমিত মোবাইলসংযোগ ও ইন্টারনেট সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে। সেখানে আন্তর্জাতিক এনজিও কর্মীদের প্রবেশে বাধা দেয়া হচ্ছে। পাকিস্তানের রাজনীতির সাথে স্থানীয়দের অংশগ্রহনে বাধার সৃষ্টি করা হচ্ছে। সিন্ধু ও বালুচিস্তান প্রদেশে মানবাধিকার লংঘন ও মতবিরোধীদের জোর করে গায়েব করে দেয়ার জন্য লাল তালিকায় আবদ্ধ হয়েছে পাকিস্তান। প্রকাশিত সংবাদের বলা হয়েছে যে বালুচিস্তানের মানুষদের সিপিইসি ও চীনের বিরোধীতা করার জন্য নিশানা করা হয়েছে। সম্প্রতি পিটিএম-এর (পশতুন তাহাফুজ আন্দোলন) নেতা মনজুর পাশতিনকে গত ২৬ জানুয়ারিতে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

পাকিস্তান সরকার ইমরান খান এতদঅঞ্চলে সন্ত্রাসীদের যে এখন পর্যন্ত উস্কানী দিয়ে আসছে, সে জলজ্যান্ত প্রমাণকে অস্বীকার করে আসছে। সেখানে যে সন্ত্রাসবাদ চলছে তা দিনি অস্বীকার করে বলছেন যে এটি আফগানিস্তান থেকে আমদানী হচ্ছে। সেখানকার নাশকতাবাদিদের দু’ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

একদিকে তাদের ভিন্ন মতাদর্শী হিসেবে তাদের ওপর নিপীড়ন চালানো হচ্ছে অন্যদিকে তাদেরকে ভারত ও অন্যান্য রাষ্ট্রে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে মদদ দেয়া হচ্ছে। তার দ্বিমুখী খেলার জন্য চীনের উইঘুর সম্প্রদায়ের সাথে চীন কি ধরণের আচরণ করছে প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে ইমরান খান বলেন তিনি বলেন, চীনের ব্যাপারে কোন মন্তব্য তিনি করবেন না কারণ সে পাকিস্তানের জন্য অনেক করেছে। ইমরান খান একদিকে কাশ্মিরের সাধারণ জনগণের উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত এবং অন্যদিকে উইঘুর সম্প্রদায়ের লক্ষ লক্ষ মানুষকে বেআইনীভাবে চীন যে আটক রাখছে তা নির্লজ্জভাবে সমর্থন দিচ্ছে।

বরাবরই মানবাধিকার লংঘনকারী দেশ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তার নিজের দেশের বিভিন্ন অংশেও এসব করার সম্প্রতি অভিযোগ উঠেছে। এশিয়া বিবি ওরফে এশিয়া নওরীনের ওপর অমানবিক আচরণ তার একটি দৃষ্টান্ত। এশিয়া বিবি, একজন খ্রিষ্টান মহিলা। তাঁকে জোর করে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে অসন্তুষ্ট জনসাধারণের সামনে বেদম প্রহার করা হয় এবং গ্রেপ্তার করে তার বিরুদ্ধে ধর্মনিন্দার অভিযোগ আনা হয়। ২০১০ সালে বিচারে তিনি নিজেকে নির্দোষ বললেও তার মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। এই বিচারের ১০ বছর পর পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্ট আগের রায়টি বাতিল করে দেয় কারণ এর বিপক্ষে কোন সাক্ষ্য ছিল না। এতে করে গোঁড়া মুসলমানেরা ক্ষিপ্ত হয়ে মিছিল বের করে। পাকিস্তার সরকার মিছিলকারীদের মিছিল, থানা আক্রমণ ও ভাঙচুরে বাধ্য হয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, স্কুল কলেজ বন্ধু ঘোষণা করে।

২০১১ সালে আরো একটি ঘটনা ঘটে। এ সময় পাঞ্জাবের গভর্নর সালমান তাসের তার একজন নিরাপত্তাকর্মী মুমতাজ কাদরীর হতে নিহত হন। কাদরীকে একজন সুফীর মর্যাদা দেয়া হয়েছিল এবং তার নামে একটি মাযারও বানিয়ে দেয়া হয়েছিল। সালমান এশিয়া বিবির পক্ষে প্রচারনা চালাচ্ছিলেন। এরপর ২০১১ সালে মন্ত্রী শাহবাজ ভাট্টিকেও হত্যা করা হয় কারণ এশিয়া বিবিকে নিয়ে তারও একটি বক্তব্য ধর্মবিদ্রোহী হিসেবে গোঁড়া মুসলিমদের কাছে বিবেচিত হয়।
বিবি এখন কানাডার একটি অজানা স্থানে বসবাস করছেন। পাকিস্তানের জেলখানায় নারকীয় দিনগুলোকে নিয়ে তিনি একটি বই প্রকাশ করেন। “এনফিন লির্ব” (অবশেষে মুক্ত) নামের বইটি জানুয়ারির ২৯ তারিখে প্রকাশিত হয়েছে যেখানে তিনি তাঁর জেলখানার নারকীয় দিনগুলো স্মরণ করেন, তাঁকে শেকল দিয়ে বেঁধে রাখা হত আর অন্যান্য কয়েদীরা তা দেখে উপহাস করত।

অন্য আর একটি দৃষ্টান্ত দেখা যায়, যেখানে পাকিস্তান কাশ্মিরী জনগণের প্রতি ভ্রাতৃত্ব প্রকাশ করে অথচ সেখানে বিদ্রোহী সংগঠনগুলোকে উস্কে দেয়। জম্মু ও কাশ্মিরকে স্বাধীন করতে যেসব মানুষ শহীদ হয়েছেন, তাদের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যের সমর্থনে প্রতি বছর ৫ ফেব্রুয়ারি তথাকথিত শহীদদের প্রতি সম্মান জানানো হয়। ১৯৯০ সালে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী এবং বিরোধী দলীয় নেতা নওয়াজ শরীফের ডাকে প্রথম এ দিনটি পালন করা হয়। তিনি ঐদিন কাশ্মিরে ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দেশময় হরতাল ডাকেন। ওই সময় থেকে ‘কাশ্মির দিন’ হিসেবে পালন হয়ে আসা দিনটিতে জিহাদপন্থী ও অন্যান্য নিষিদ্ধ দলগুলো সমাবেশ করে, চাঁদা তোলে, স্লোগান দেয়।

মূলতঃ এসব দলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার আন্তর্জাতিক চাপ থাকলেও পাকিস্তান সরকার প্রকাশ্যেই সমর্থন দেয়। অনেক কর্মীই ৫ ফেব্রুয়ারি দিনটিকে ব্যবহার করে ভারতের বিরুদ্ধে জ্বালাময়ী বক্তৃতা দেয়, প্রকাশ্যে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করে। ২০১৯ সালে জাইস-ই-মোহাম্মদ নিষিদ্ধ দলের প্রধান, হাফিজ সাঈদ, যিনি বিশ্বময় সন্ত্রাসবাদী বলে জাতিসংঘ নিরাপত্তা কাউন্সিল কর্তৃক চিহ্নিত, যিনি লস্কর-ই-তৈয়বা দলের প্রধান, ২৬/১১-এর মুম্বাই হামলার প্রধান পরিকল্পক, তাকে প্রকাশ্য সমাবেশে সড়কে দেখা যায়। যাদের কোন রাজনৈতিক ও নৈতিক আদর্শ নেই এমন কিছু সন্ত্রাসীকেও এই সময় প্রকাশ্যে জিহাদে ডাক দিতে দেখা যায়। জামাত-উদ-দাওয়া, সিপাহ-ই-সাহিবা, হরকাত-উল-মুজাহিদিনসহ আরো ৪০টিরও বেশি দলের সংগঠিত কাউন্সিল ডিফা-ই-পাকিস্তান দলের পক্ষে সাইদ সালাহউদ্দিনকে প্রকাশ্যে চাঁদা তুলতে দেখা যায়।

২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে আইএসআই প্রতীক নিয়ে জিহাদের ডাক দেয়া দলগুলোও একটি উদাহরণ যেগুলোতে জামাত-উদ-দাওয়া, সিপাহ-ই-সাহিবা, হরকাত-উল-মুজাহিদিনসহ আরো অনেক দলের সম্পৃক্ততা দেখা যায়। এদেরকে পাকিস্তান-ভারত সীমান্তে কাশ্মির সংলগ্ন এলাকায় বিএসএফের টহল চৌকিতে আক্রমণের লক্ষ্যে পাকিস্তান প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে।

বিশ্বসম্প্রদায় এখন দেখছে পাকিস্তান এখন সন্ত্রাসবাদীদের আশ্রয়কেন্দ্র। এসব ঘটনায় বিশ্বপর্যবেক্ষকদের চোখে পাকিস্তান নিজেকেই এসব সন্ত্রাসবাদিদের কেন্দ্রবিন্দুতে নিজের অবস্থান দেখছে। গত বছরের ফিনানশিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে আন্তর্জাতিক সংস্থা পাকিস্তানের দ্বারা সন্ত্রাসে অর্থায়নের ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশটির অগ্রগতির অভাব নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করে।

পাকিস্তান নিজেই একটি ঝুঁকিবহুল দেশে পরিণত হয়েছে এবং এই ফেব্রুয়ারি মাসে তা পুক্সক্ষানুপুক্সক্ষভাবে বিশ্লেষণ হবে। পাকিস্তানকে কালো তালিকাভূক্ত করা হতে পারে যা তার অর্থনীতিকে ছিন্নভিন্ন করে দিতে পারে।