হোম রাজনীতি ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর অপসারণ ও শাস্তির দাবি তরীকত ফেডারেশনের

ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর অপসারণ ও শাস্তির দাবি তরীকত ফেডারেশনের

51
ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর অপসারণ ও শাস্তির দাবি তরীকত ফেডারেশনের
ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছে তরীকত ফেডারেশন - ছবি : সংগৃহীত

বিটিএন২৪ রিপোর্ট: বরেণ্য ওলামায়ে কেরামদেরকে কুকুরের সাথে তুলনা করে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো: আব্দুল্লাহর অশ্লীল কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে তার অপসারণ ও শাস্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশন (বিটিএফ)।

আজ সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, বিটিএফ’র মুখপাত্র আলহাজ্ব মাওলানা জাকির হোসাইন।

তিনি বলেন, ‘ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ তার এক বক্তব্যে দেশবরেণ্য ওলামায়ে কেরামদের কুকুরের সাথে তুলনা করেছেন। তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দেশের আলেম-ওলামাদের মধ্যে বিভক্ত সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়ে আসছেন।’

জাকির হোসাইনের দাবি, “তিনি হীন ও ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের জন্য সরকারি আলিয়া মাদরাসা এবং কওমি মাদরাসার আলেম-ওলামাদের মধ্যে বিভেদ ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি দেশের ঐতিহ্যবাহী আলিয়া মাদরাসাসমূহকে ‘আলিয়া-মালিয়া’ বলে চরম কটূক্তি এবং কটাক্ষ করে দেশের লাখ লাখ আলেম-ওলামার প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করেছেন। আলিয়া মাদরাসার সম্মানিত আলেম-উলামাদের ন্যাক্কারজনকভাবে কুকুর বলে কটূক্তি করেছেন।এছাড়া তিনি ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ পবিত্র হজকে ‘কুকুরের খাদ্য হিসেবে এক কেজি গোস্তের’ সাথে তুলনা করে এক জঘন্য উপমা দিয়ে ইসলামী মূল্যবোধের উপর চরমভাবে আঘাত করেছে।”

তিনি বলেন, ‘আমাদের ধর্ম মন্ত্রণালয় কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের একচেটিয়া প্রতিষ্ঠান নয়। বাংলাদেশের সকল ধর্ম-বর্ণ, দল-মত নির্বিশেষে সকলের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও স্বার্থরক্ষা এ প্রতিষ্ঠানের মূল দায়িত্ব। এ প্রতিষ্ঠান দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী কোনোভাবেই নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী, বিশেষ কোনো মতের বা দলের স্বার্থ রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারেন না।’

তিনি আরো বলেন, ‘যুগ যুগ ধরে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ঐতিহ্য হিসেবে সরকারি খরচে বিশিষ্ট আলেম-ওলামা ও ব্যক্তিবর্গকে হজে পাঠানোর রেওয়াজ চলে আসছে। কিন্তু এবছরই প্রথম, তিনি পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে তার পছন্দের একটি বিশেষ মতের প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে হজে পাঠান, যা তার প্রদত্ত বক্তব্যে স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। এক কথায় তিনি দল-মত-নির্বিশেষে নিরপেক্ষভাবে দেশের সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের ধর্মীয় স্বার্থ ও স্বাধীনতা রক্ষায় চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। যার কারণে তাকে আমরা কোনোভাবেই ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মেনে নিতে পারি না। আমরা মনে করি- তিনি দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।’

এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘সম্মানিত ওলামায়ে কিরাম ও পবিত্র হজের প্রতি অশালীন ও অসম্মানজনক কটূক্তির জন্য অবিলম্বে শেখ মো: আব্দুল্লাহকে মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদকের পদ থেকে অপসারণ করা হোক এবং তাকে শাস্তির আওতায় আনা হোক।’

সরকারকে এক সপ্তাহ সময় বেঁধে দিয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী এক সপ্তাহ পর্যন্ত সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের জন্য অপেক্ষা করবো। যদি আমাদের দাবি মানা না হয় তাহলে দেশের সকল ওলামা মাশায়েখ নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা ও সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আমরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো। আর এর জন্য সৃষ্ট পরিস্থিতির জন্য সরকারই দায়ী থাকবে।’

সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মনোয়ার হোসাইন রেজবী, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আল্লামা সাইয়েদ মুহতাসিম বিল্লাহ রব্বানী, সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব মোহাম্মদ আলী ফারুকী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।