আসমানী ইলমের শক্তির সামনে অন্য কোন শক্তির তুলনাই হয় না: আল্লামা বাবুনগরী

7

বিটিএন২৪ রিপোর্ট: হাটহাজারী মাদরাসার সহযোগী পরিচালক ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেছেন,বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সংবিধান, মহাগ্রন্থ আল কুরআন সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানী কিতাব।মানব জাতীর একমাত্র মুক্তির সনদ আল-কুরআন।কুরআনী ইলম যারা অর্জন করে তাঁদের মর্যাদা অনেক বেশী।আসমানী ইলম তথা কুরআন হাদীসের ইলমের শক্তি বস্তু কেন্দ্রীক শক্তির চেয়ে লক্ষকোটি গুণ বেশী।

গত ২ রা জুলাই মঙ্গলবার বাদ জোহর হাটহাজারী মাদরাসার কেন্দ্রীয় বায়তুল করীম জামে মসজিদে জামিয়ার হাজার হাজার ছাত্রদেরকে নসিহতকালে এ সব কথা বলেন তিনি।

পবিত্র কুরআন শরীফের সুরা নামলের ৩৮ নং আয়াত উল্লেখ করে আল্লামা বাবুনগরী বলেন,হযরত সোলায়মান আলাইহিস সালাম যখন তাঁর পরিষদবর্গকে বলেছিলেন যে,তারা আত্মসমর্পণ করে আমার কাছে আসার পূর্বে কে বিলকিসের সিংহাসন এনে দেবে? তখন জনৈক দৈত্য-জ্বীন বলেছিল আপনি আপনার স্থান থেকে উঠার পূর্বেই আমি তা এনে দেবো এবংআসমানী কিতাবের জ্ঞান সম্পন্ন একজন (আলেম) বলেছিল যে,আপনার দিকে আপনার চোখের পলক ফেলার পূর্বেই আমি তা এনে দেবো।এবং কিতাবের জ্ঞান সম্পন্ন আলেমই বিলকিসের সেই সিংহাসন এনে দিয়েছিলেন।

এর দ্বারা সুস্পষ্টভাবে বুঝা যায় যে,আসমানী ইলমের শক্তিই সব চেয়ে বড় শক্তি।আসমানী ইলমের শক্তির সামনে বস্তু কেন্দ্রীক শক্তির কোন তুলনাই হয় না।

সহীহ নিয়্যাতের সহিত নিরলস মেহনত ইলমে দ্বীন অর্জনের পূর্ব শর্ত উল্লেখ করে ইলম পিপাসু জামিয়ার হাজার হাজার ছাত্রদের উদ্দেশ্যে আল্লামা বাবুনগরী আরো বলেন,ইলমে দ্বীন অর্জনের জন্য নিরলস মেহনত করতে হবে।মুহাদ্দীস আবু হাতেম রাযি রহ.ইলম অর্জনের জন্য নয় হাজার মাইল পায়ে হেটে সফর করেছেন।ইমাম বুখারী রহ.ইলমে হাদীস অর্জন করার সফর গিয়ে কখনো কখনো গাছের পাতা, জমিনের ঘাস খেয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন,আমার মরহুম আব্বাজান মেশকাত শরীফের বিখ্যাত ব্যাখ্যাগ্রন্থ তানজীমুল আশতাত রচয়িতা আল্লামা আবুল হাসান রহ.ছাত্র জীবনে রাত্রে ঘুমাতেন মাত্র দুই ঘন্টা।তাও বালিশের বদলে ইট ব্যবহার করতেন ঘুম বেশি না হবার জন্য।

এ ছাড়াও আমাদের পূর্বসূরিদের ইলমের জন্য ত্যাগ তিতিক্ষার এমন হাজারো ঘটনাবলী ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ আছে।

আরবী ভাষা কুরআনের ভাষা।কুরআন হাদীস,ফিকাহ, তাফসীর, ইসলামের ইতিহাস সহ অসংখ্য কিতাব আরবী ভাষায় রচিত। আরবী ভাষায় বুৎপত্তি অর্জন ব্যতীত কুরআন সুন্নাহ বুঝা সম্ভব নয়।তাই সকলেকে আরবী ভাষায় পারদর্শিতা অর্জন করতে পরামর্শ দেন তিনি।

দৈনিক ক্লাসের পাঠ ক্লাসে যাবার আগে ভালভাবে মোতালায়া(অধ্যয়ন)করে যাওয়া এবং ক্লাস শেষে পূণরায় তা তাকরার বা অনুশীলন করা ও পুরো পাঠের সারাংশ নিজের ভাষায় আয়ত্ত করে পড়ালেখা করতে সকল ছাত্রদের পরামর্শ দেন।

আমল ছাড়া ইলমের কোন মূল্য নেই উল্লেখ করে আল্লামা বাবুনগরী বলেন,ইলম-আমাল উভয় শব্দের মূলধাতু হলো, আইন-লাম-মীম।এর দ্বারা বুঝা যায় ইলম আর আমাল একটি অপরটির সাথে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে মিল রয়েছে।

ইলম শিখে যদি তা আমালে আনা না যায় তাহলে সেই ইলমের কোন মূল্যই থাকে না।তাই ইলম শিখার পাশাপাশি আমালের প্রতি বিশেষ গুরুত্ববাব হতে হবে। দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামায জামাত সহকারে আদায় করতে হবে,তাহাজ্জুদের নামায আদায়ে পাবন্দ হতে হবে এবং মিসওয়াকের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

এ ছাড়াও উস্তাদের ইজ্জত সম্মান,কিতাবের ইহতিরাম ও জামিয়ার সকল আইন কানুন মেনে চলে লেখা পড়া করতে হাজার হাজার ছাত্রদেরকে উদ্বুদ্ব করেন জামিয়ার সহযোগী পরিচালক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।