হোম জাতীয় আমরা উল্টো রাজার দেশে বাস করছি

আমরা উল্টো রাজার দেশে বাস করছি

আমরা উল্টো রাজার দেশে বাস করছি

বিটিএন২৪ রিপোর্ট:: দেশের সবকিছুই এখন উল্টো দিকে চলছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ফাহমিদুল হক। তিনি বলেন, যে আক্রান্ত তাকে ধরা হচ্ছে, হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না। অথচ আক্রমণকারী নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াচ্ছে। হাতুড়ি দিয়ে বর্বরভাবে আঘাত করা হচ্ছে। আমরা এ কোন দেশে বসবাস করছি? এটা উল্টো রাজার দেশ।’

শুক্রবার (৬ জুলাই) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কোটা সংস্কার আন্দোলনে নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীদের উদ্বিগ্ন অভিভাবকদের সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক ফাহমিদুল হক বলেন, ‘সচেতন সাধারণ নাগরিকের মনে যে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে, তা নেভাতে পারছে না সরকার। সরকার ভুলে গেছে অসহিষ্ণুতা পতনের ব্যাস্তানুপাতিক। এ ধরনের অসহিষ্ণু আচরণ পতনের লক্ষণ।’

তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু আমরা সে উদ্দেশ্যে আসিনি। আমরা দাবি নিয়ে এসেছি। আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে আমরা এসেছি।’

সমাবেশে বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যাতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ‘ছাত্রলীগের কর্মীদের উদ্দেশ্যে আমি বলতে চাই, হাতুড়িপেটা করে সরকারি চাকরি পাওয়া যাবে না। যারা ভাবছেন পাবেন, এমন ভেবে থাকলে আপনারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন।’

তিনি বলেন, ‘নিপীড়নকারীরা নিজেরাও নিশ্চিত নন, তারা কেন এমন করছেন। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমরা যা দেখছি তা অত্যন্ত ভয়াবহ। আইনের লোক আইনের পোশাক পরে অপরাধ করে পার পেয়ে যাবে— এমনটা ভাবাও বোকামি।’

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাসনাত কাইয়ুম বলেন, ‘আমাদের দাবিগুলো সুস্পষ্ট। আমাদের সন্তানরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে নিরাপদ নয়। আমরা চাই অবিলম্বে আমাদের সন্তানদের ওপর সরকার ও রাষ্ট্রের প্রশ্রয়ে, নির্দেশে বা অনুমোদনে যে হামলা ও নির্যাতন পরিচালিত হচ্ছে সে বিষয়ে অবিলম্বে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি দেওয়া হোক।’

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুরুর বাবা মো. ইদ্রিস হাওলাদার বলেন, ‘আমি একজন কৃষক। আমার জায়গাজমি বিক্রি করে আজকে আমার ছেলের চিকিৎসার খরচ বহন করছি। যে নির্যাতন করা হয়েছে, আজ আমার ছেলে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। ঢাকা মেডিক্যালে নেওয়ার পর তাকে বের করে দিয়েছে। এরপর যেখানে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয় সেখান থেকেও তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কোটা সংস্কার আন্দোলন যদি যৌক্তিক হয় তাহলে এই দাবি মেনে নিন।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রেহনুমা আহমেদ বলেন, ‘এই সমাবেশের আয়োজকদের বলবো, তাদের দাবির সঙ্গে ছাত্রীদের যৌন নিপীড়নের বিষয়টি যেন অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ছাত্রীরা অভিযোগ করেছে যৌন নিপীড়নের। তাদের নাকি ধর্ষণেরও হুমকি দেওয়া হয়েছে। কোন সাহসে আমাদের টাকার পুলিশ বাহিনী এসব কথা উচ্চারণ করে আমি জানতে চাই।’

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন
অনুগ্রহ করে এখানে আপনার নাম লিখুন