হোম রাজনীতি আবরার রাহাত নিহতের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে ছাত্র খেলাফতের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

আবরার রাহাত নিহতের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে ছাত্র খেলাফতের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

155
0
আবরার রাহাত নিহতের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে ছাত্র খেলাফতের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখছেন ইসলামী ঐক্যজোটের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আলতাফ হোসাইন।

৭২ ঘন্টার মধ্যে প্রথম আলো-কিশোর আলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে কঠিন কর্মসূচী ঘোষনা করা হবে

বিটিএন২৪ রিপোর্ট: দৈনিক প্রথম আলোর কিশোর সাময়িকী ‘কিশোর আলোর’ বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে কলেজ ছাত্র নাইমুল আবরার রাহাত নিহতের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অবিলম্বে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান এবং বিতর্কিত ‘প্রথম আলো’ ও কিশোর আলো’-এর ডিক্লারেশন বাতিলের দাবিতে বিশাল মানববন্ধন করেছে ইসলামী ছাত্র খেলাফত বাংলাদেশ। আজ সোমবার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি মোঃ খোরশেদ আলমের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী ঐক্যজোটের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আলতাফ হোসাইন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, গত শুক্রবার ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের মাঠে প্রথম আলোর কিশোর সাময়িকী ‘কিশোর আলোর’ বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎস্পর্শে আহত হয়ে আয়োজকদের চরম অবহেলায় মৃত্যু বরণ করে কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র নাইমুল আবরার রাহাত। কিন্তু এই মর্মান্তিক ঘটনার পরও প্রথম আলো-কিশোর আলো কর্তৃপক্ষ তাকে বাঁচানোর কোন পদক্ষেপ নেয়নি।। দূর্ঘটনার এক ঘন্টা পর পাশের হাসপাতালকে এড়িয়ে মহাখালীতে একটি বেসরকারী হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তাররা জানায়, সে আরো আগেই মারা গেছে। আবরারের সহপাঠিরা যখন তার মৃত্যু সংবাদ শুনলো, তখনও মঞ্চে নাচ-গান চলছিল। এটা আবরারের লাশের সাথে চরম দৃষ্টতা, অমানবিকতার নিকৃষ্ট নজির।

মাওলানা আলতাফ হোসাইন বলেন, প্রথম আলো-কিশোর আলো কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণেই নাইমুল আবরার রাহাত মারা গেছে। এর দায়ভার প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান ও কিশোর আলো সম্পাদক আনিসুল হককেই নিতে হবে। তিনি বলেন, আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে নাইমুল আবরার রাহাত নিহতের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিতর্কিত ‘প্রথম আলো’ ও কিশোর আলো’-এর ডিক্লারেশন বাতিল করতে হবে, তা না হলে কঠিন কর্মসূচী ঘোষনা করা হবে।

মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন, ইসলামী ঐক্যজোটের কেন্দ্রীয় নেতা মুফতী সাইফুল ইসলাম, মুফতী মীর হেদায়েতুল্লাহ গাজী, মাওলানা মনজুর মুজিব, মাওলানা আনছারুল হক ইমরান, মাওলানা ওমর ফারুক, মুফতী মুনসুরুল হক, ইসলামী ছাত্র খেলাফত বাংলাদেশ-এর সেক্রেটারী জেনারেল মোঃ আবুল হাশিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মুহিউদ্দিন, ইলিয়াছ আহমেদ, আরিফ খান, জুবায়ের আহমদ চৌধুরী, এনামুল হক প্রমুখ।

মানববন্ধনে অন্যান্য বক্তারা বলেন, এক আবরারের হত্যার ক্ষত না শুকাতেই আরেক আবরার নিহতের সংবাদে আমরা ব্যাথিত। এই মর্মান্তিক মৃত্যুর জন্য প্রথম আলো-কিশোর আলোর প্রকাশক, সম্পাদকগণ দায়ী। অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

তারা বলেন, প্রথম আলো জন্ম থেকেই দেশ, জাতি, ইসলাম ও কওমী মাদ্রাসা নিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। ২০০৭ সালে তাদের রম্য ম্যাগাজিন ‘আলপিনে’ মহানবী (সা.)কে নিয়ে কটাক্ষ্য করা হয়েছিল। তখন দেশব্যাপী তুমুল আন্দোলনের চাপে তৎকালীন বায়তুল মোকাররম মসজিদের খতিবের কাছে তওবা ও নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন পত্রিকাটির সম্পাদক। এরপরও তাদের ষড়যন্ত্র বন্ধ হয়নি। তারা একের পর দেশের স্বাধীনতা সাবভৌমত্ব, ইসলাম ও কওমী মাদ্রাসাকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। তারা ইসলাম ও দেশের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদকে উস্কে দিয়ে বর্হিবিশ্বে বাংলাদেশকে জঙ্গিবাদী রাষ্ট্র বানিয়ে পশ্চিমা আগ্রাসনকে তরান্বিত করতে চায়। কিন্তু তাদের মনে রাখতে হবে, হযরত শাহ জালাল, শাহ্ পরান, শাহ মাখদুম, হাফেজ্জী, পীরজী ও মুফতী আমিনী রহ. এর অনুসারীরা বেঁচে থাকতে এ দেশে দেশ ও ইসলাম বিরোধী কােন ষড়যন্ত্র সফল হবে না ইনশাল্লাহ।